আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইন লঙ্ঘন করবে প্রীতি প্যাটেলের নতুন বর্ডার বিল

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র সচিব প্রীতি প্যাটেলের বিতর্কিত নতুন বর্ডার বিলটি ১০টি ভিন্ন উপায়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আইন লঙ্ঘন করবে। যু'ক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের একটি রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।

কিউসি রাজা হুসেইনের নেতৃত্বে চার ব্যারিস্টার দাবি করেন, সংসদে চলমান জাতীয়তা ও সীমান্ত বিলটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শরণার্থী চুক্তিকে চ্যালেঞ্জের দিকে নিয়ে যাবে।

মানবাধিকার গোষ্ঠী ফ্রিডম ফ্রম টর্চারের ৯৫টি আইনি মতামত অনুসরণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, “এই বিলটি যু'ক্তরাজ্যে দেখা আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইনের উপর সবচেয়ে বড় আইনি হা'ম'লার প্রতিনিধিত্ব করে”।

তারা বলেন, বিলটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে- যারা যু'ক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য আসবেন, তাদেরকে প্রশাসনিক ও অ'প'রা'ধমূলকভাবে দোষী বানানো হবে। এছাড়া বিলটি যু'ক্তরাজ্যের আ'দা'লতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিপরীতে যাবে।

বিলটি বাস্তবায়িত হলে, যু'ক্তরাজ্যে কেউ অ'বৈ'ধভাবে প্রবেশ করলে তাদের অ্যাসাইলাম ক্লেইম অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করা যেতে পারে, চার বছর পর্যন্ত জে'ল হতে পারে, পাবলিক ফান্ড পাবেন না এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে।

আইনজীবীরা বলনে, বিলটি জাতিসংঘের শরনার্থী কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৩১, ৩২ এবং মানবাধিকার বিষয়ক ইউরোপীয়ান কনভেশনের অনুচ্ছেন ২, ৩ ও ৪ লঙ্ঘন করেছে।

এদিকে, যারা আশ্রয় দাবি করছেন তাদের অফশোর সেন্টারে পাঠানোর পরিকল্পনা ইউরোপীয় কনভেনশনের তিনটি অনুচ্ছেদ, রিফিউজি কনভেনশনের তিনটি অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করবে।

কমিটি পর্যায়ে থাকা বিলটির উল্লেখিত উদ্দেশ্যগুলো হলো, আশ্রয় ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু করা, যু'ক্তরাজ্যে অ'বৈ'ধ প্রবেশ বন্ধ করা এবং দেশে থাকার অধিকার নেই এমন লোকদের অ'পসারণ করা। যু'ক্তরাজ্যে এই বিলটি নিয়ে বিতর্ক চলমান। বিশেষ করে এর কারণে সরকার ও মানবাধিকার আইনজীবীদের মধ্যে এক প্রকার বিভেদ সৃষ্টি করেছে। এর কারণে স্বরাষ্ট্র সচিবকেও বিতর্কে পড়তে হচ্ছে, যেখানে কেবিনেট ও কনজার্ভেটিভ এমপিরা অ্যাসাইলাম সিকারদের কাজের অধিকার দেওয়ার পক্ষে।

সম্প্রতি, যু'ক্তরাজ্যের চলমান কর্মীসংকট মোকাবেলায় সেদেশের আশ্রয়প্রার্থীদের কাজ করার অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে নিজেকে ‘ওপেন মাইন্ডেড’ বা ‘মুক্তমনা’ হিসেবে তুলে ধরেছেন নতুন জাস্টিস সেক্রেটারি ডমিনিক রাব। এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে অ্যাসাইলাম ক্লেইম প্রক্রিয়াকরণের অ'পেক্ষায় থাকা লোকদের একীভূত করে যু'ক্তরাজ্যে ইতিবাচক অবদান রাখাতে সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই প্রাক্তণ পররাষ্ট্র সচিব।

Back to top button