খেলাধুলা

রেকর্ড সেঞ্চু’রির নেপথ্যে ‘ফ্রি খেলার লাইসেন্স’

নিউজ ডেস্কঃ মা’থার ওপর ছিলো ২২১ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার পাহাড়সম চাপ। পঞ্চ’ম ওভা’রেই ওপেনার সাইফ হাসান ফিরে যাওয়ায় আসতে হয় উইকে’টে। তখন জয়ের জন্য ৯৩ বলে ১৭৭ রান করতে হতো ফরচুন বরিশালকে। সেই অবস্থায় খেলেন ৪২ বলে রেকর্ড সেঞ্চু’রির ইনিংস। যার সুবাদে ১১ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় বরিশাল।

বলা হচ্ছে, বরিশালের তরুণ বাঁহাতি টপঅর্ডার পারভেজ হোসেন ইমনের কথা। মঙ্গলবার মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর বিপক্ষে মাত্র ৪২ বলে সেঞ্চু’রি করে বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম সেঞ্চু’রির পাশাপাশি দেশের কনিষ্ঠতম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টি সেঞ্চু’রির রেকর্ড গড়েছেন ইমন। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার পথে ৯ চারের সঙ্গে ৭টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ইমন।

তার এমন ইনিংসের নেপথ্যে ছিল, দল থেকে পাওয়া ‘ফ্রি খেলার লাইসেন্স।’ টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচগুলোতে নিজের মতো করে খেলতে পারছিলেন না ইমন। যে কারণে খুব একটা বড়ও হচ্ছিল না তার ইনিংসগুলো। মঙ্গলবার দলের কাছ থেকে ফ্রি খেলার লাইসেন্স চেয়ে নেন তিনি। আর এতেই করেন বাজিমাত।

আজ (বুধবার) সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে জানিয়েছেন বরিশালের ম্যানেজার হাসিবুল হোসেন শান্ত। ইমনের ইনিংসটি স’ম্প’র্কে নিজের মূল্যায়ন জানাতে গিয়ে জাতীয় দলের এই সাবেক তারকা পেসার বলেন, ‘কথা হয়েছিল যে আমাদের হা’রা’নোর কিছু নেই। ২২০ রান তাড়ায় প্রথম ৬ ওভা’রে যদি আম’রা ভালো কিছু করতে পারি তাহলে সুযোগ থাকে।’

‘তারপরও ২২০ অনেক রান ছিল, এক্সট্রা অর্ডিনারি ব্যাটিং করেছে ইমন। সাইফ হাসানও ভালো একটা শুরু এনে দিয়েছিল। যে কারণে আম’রা ২২০ তাড়া করতে পেরেছি। তামিমের ৩৭ বলে ৫৭ রানের ইনিংসটিও দলের অনেক উপকারে এসেছে। ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে যেটা চেয়েছিলাম সেটা করতে পেরেছে সবাই। ইমন এক্সিলেন্ট। এমন ইনিংস একজন না খেললে জেতা কঠিন ছিল।’

ইমনকে দেয়া ফ্রি লাইসেনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ইমনের সঙ্গে আমা’র (মঙ্গলবার) সকালে কথা হয়েছিল। তখন আমাকে বলল, তাকে ফ্রি খেলতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে তোমাকে ফ্রি খেলতে দিচ্ছে না? এরপর আমি তামিমকে বললাম, ওকে একটু ফ্রি খেলতে দাও, ওকে ওর মত খেলতে দাও। তামিম তখন বলল, তুমি খেল তোমা’র মত। আমা’র কাছে যেটা মনে হয়, তামিম বলার পর ওর ভেতরে যে উৎসাহ জেগেছে সেখান থেকে ওর এমন এই ইনিংস।’

শুধু এই বরিশাল দলেই ইমনের ম্যানেজার নন শান্ত, চলতি বছর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও ইমনদের ম্যানেজার ছিলেন তিনি। যেখানে কাছ থেকেই দেখেছেন বিশ্বজয়ী যুবাদের। তবে ইমনকে তিনি দেখছেন অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে। তখন থেকেই মে’রে খেলাটা ছিল ইমনের সহ’জাত। যার প্রদর্শনী হয়েছে মঙ্গলবার রাজশাহীর বিপক্ষে ম্যাচে।

হাসিবুল শান্ত বলেছেন, ‘আমি ওকে অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে দেখছি। ন্যাচারালি কিন্তু ও এ ধরনের ক্রিকেটই খেলে। এখানে সে আরও বেটার ক্রিকেট খেলছে। কিছু শট যেমন ছক্কা যেগুলো মে’রেছে সবগুলোতেই সুন্দর কানেক্ট করতে পেরেছে। এটা ও ধরে রাখতে পারলে পরবর্তী ম্যাচের জন্য আমাদের বাড়তি পাওয়া হবে।’

ইমন নিজেও জানিয়েছেন, এটিই তার স্বাভাবিক ব্যাটিং। বরিশালের পক্ষ থেকে দেয়া ভিডিওবার্তায় রেকর্ডবয় বলেছেন, ‘আমি ন্যাচারালি এমন খেলার চেষ্টা করি। এই অভ্যাসটা আগে ছিল। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে এমন ছিলাম না। যুব বিশ্বকাপের পর এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এসেছে- বিষয়টা এমন না। এইচপির শেষ দুইটা প্রস্তুতি ম্যাচে মে’রে খেলার চেষ্টা করেছি। সেখানে সফল হয়েছি। এরপর আত্মবিশ্বা’সটা এসেছে।’

Back to top button