সারাদেশ

ক’রো’না ইউনিটে নাইট ডিউটির সময় পিজি হাসপাতা’লের নার্সকে ধ’র্ষ’ণ

সুই’সা’ইড নোটে প্রে’মিককে দায়মুক্তি দিয়ে আত্মহ’ত্যা করেছেন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতা’লের (বিএসএমএমইউ) নার্স লাইজু আক্তার (২৭)। এদিকে লাইজুর আত্মহ’ত্যার পেছনে তানভীরের প্র’রো’চ’না দায়ী বলে অ’ভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনরা। তাদের ভাষ্য, লাইজু পরকীয়ার বলি। তার মোবাইল ফোন থেকে মায়ের কাছে পাঠানো এসএমএসে প্রত্যক্ষ প্ররােচনায় প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রমাণ মেলে তানভীরকে পাঠানাে এসএমএসেও। গত শনিবার রাতে বিএসএমএমইউর নাসিং হােস্টেলের ষষ্ঠ তলার বাথরুমে গলায় ওড়না প্যাচানাে অবস্থায় লাইজুর লা’শ উ’দ্ধা’র করে শাহবাগ থা’না পু’লিশ। এ ঘটনায় লাইজুর স্বামী সুজন পারভেজ বাদী হয়ে তানভীরকে আ’সা’মি করে শাহবাগ থা’নায় মা’ম’লা করেন। ঘটনার পর থেকেই তানভীর পলাতক।

লাইজুর স্বামী সুজন পারভেজ বলেন, আত্মহ’ত্যা ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অ’ভিযু’ক্ত কথিত প্রে’মিক তানভীরকে (৩২) গ্রে’প্তা’র করতে পারেনি পু’লিশ। পু’লিশের দাবি, তাকে গ্রে’প্তা’রে সম্ভাব্য সব জায়গায় অ’ভিযান চলছে। শিগগিরই তাকে গ্রে’প্তা’র করা হবে। স্বজন ও পু’লিশ সুত্রে জানা যায়, লাইজু ও তানভীরের স’ম্প’র্কের বিষয়টি জানাজানি হলে লাইজুর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

তানভীরের মা ও স্ত্রী’ লতা মৃ’ত্যর আগে লাইজু নিজের মোবাইল ফোন থেকে তানভীরকে পাঠানাে এক এসএমএসে লেখেন, হেরে গেছি তােমায় মি’থ্যে প্রতিশ্রুতির কাছে। এ ছাড়া নিজ হাতে লেখা সুই’সা’ইড নােটেও তানভীরকে দায়মুক্তি দিয়ে যান ভুক্তভােগী লাইজু। আত্মহ’ত্যার আগে তানভীরকে লেখেন, ‘তুমি আমাকে যে ক’ষ্ট দিছাে তার পর আর বেঁচে থাকার সাধ থাকে না। হেরে গেছি আমি, তােমায় মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কাছে। তােমায় মিথ্যা ভালােবাসার কাছে হেরে গেছি। সব শেষ করে দিলাম, ভালাে থাকো। ভালাে থাকো তুমি, তােমা’র ফ্যামিলি। আমাকে আর কারও কাছে খা’রা’প করো না।’

মাকে এসএমএসে লেখেন, ‘মা, আমা’র কপাল খুব খা’রা’প। আর কেউ না জানুক তুমি তাে জানাে, আমা’র বাবা নেই বলে আজ এই করুণ পরিণতি। এত যু’দ্ধ করে চলা যায় না।’

পু’লিশ সূত্রে জানা যায়, মৃ’ত্যুর আগে এক আবেগঘন সুই’সা’ইড নােট লিখে গেছেন লাইজু। সেখানে তিনি তানভীরে স্ত্রী’ লতা আর স্বামী সুজন তার জীবন অ’তিষ্ঠ করে তুলেছে বলে অ’ভিযোগ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পু’লিশের একজন উর্ধতন কর্মক’র্তা বলে, তিন থেকে চার মাস আগে শাহবাগ থা’নায় তানভীরের বি’রু’দ্ধে ধ’র্ষ’ণ মা’ম’লা কলতে এসেছিলেন লাইজু। সে সময় তার স্বামীকে থা’নায় বাইরে রেখে ধ’র্ষ’ণের বিষয়টি পু’লিশকে জানান তিনি। ওই সময় লাইজু জানান, করােনা ইউনিটে নাইট ডিউটি সময় তানভীর তাকে ধ’র্ষ’ণ করেছে। এরপর আবার বাইরে গিয়ে তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলে পু’লিশকে জানায় মা’ম’লা করবেন না এবং পারিবারিকভাবে তা মীমাংসা করবেন বলে বাইরে বেরিয়ে যান।

লাইজুর স্বামী সুজন পারভেজ বলেন, ‘লাইজুকে সব সময় উ’ত্ত্য’ক্ত করত তানভীর। লাইজু আমাকে বলত তানভীর তাকে ব্লাকমেল করছে। একপর্যায়ে লাইজু তানভীমের সঙ্গে স’ম্প’র্কে জড়িয়ে যায়। আমি অনেক অনুরােধ করলেও সে তানভীরের সঙ্গে স’ম্প’র্ক চালিয়েছ গেছে। একপর্যায়ে তানভীরের স্ত্রী’ লতা আমাকে ফোন করে বিষয়টি বলে।

থা’নায় অ’ভিযােগ বলতে যাওয়ার বিষয়ে সুজন বলেন, ‘লাইজু আমাকে সঙ্গে নিয়ে থা’নায় অ’ভিযােগ করতে গিয়েছিলো। অমাকে বাইরে রেখে ও থা’নায় ভেতরে গিয়ে কথা বলে। পরে বাহিরে এসে বলে মা’ম’লা করবো না, পারিবারিকভাবে সমাধান করবো।

ডিএমপির রমনা বিভাগের সিনিয়র সহকা’মী কমিশনার (এসি) এসএম শামীম বলেন, ঘটনার পর থেকে তানভীর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রে’প্তা’রে সম্ভাব্য সব জায়গায় অ’ভিযান চালানাে হচ্ছে। শিগগিরেই তাকে গ্রে’প্তা’র করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক ত’দ’ন্তে পরকীয়ার কারণে আত্মহ’ত্যা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। তবু প্রকৃত ঘটনা জানতে পু’লিশ কাজ করছে। আশা করি, খুব দ্রুত র’হ’স্য জট খুলবে।

Back to top button